ঢাকা , সোমবার, ২০ মে ২০২৪
প্রতি ১'শ লিচু বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা

পুরোদমে বাজারে এসেছে কালীপুরের রসালো লিচু

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা। লিচুর রাজ্য হিসেবে দেশ জুড়েই নাম ডাক রয়েছে এ উপজেলার। আর যার জন্যই নাম ডাক সেই লিচুকে কালীপুরের লিচু বলে। মে মাসের শুরুর দিক থেকে মে মাসের শেষ পর্যন্ত পাওয়া যায় এই রসালো লিচু। শুধুমাত্র ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত স্থায়ীত্ব হয় এই লিচুর বাজার। মুলত মে মাস ঘিরেই চলে চট্টগ্রামের বিখ্যাত কালীপুরের লিচু উৎসব। তাই বাঁশখালীর কালীপুরের লিচুর কদরটাই আলাদা। 

 

সরেজমিনে, বাঁশখালী উপজেলার কালীপুরের বিভিন্ন লিচু বাগান ঘুরে দেখা যায়, ‘বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে লাল রঙের লিচু। বিগত বছরের তুলনায় এ বছর লিচু ধরেছে বেশ। তাতে উঁচুনিচু পাহাড়ের সারিতে লাগানো ঝুপড়ি গাছের শাখা-প্রশাখায় লিচু আর লিচু। শুধু কি বানিজ্যিক লিচু চাষের বাগান.? না! সড়কের পাশে, বাড়ির উঠানে ও লোকালয়ে সব জায়গায় দুই-একটা করে লিচু গাছ রয়েছে। প্রতি বাড়িতেই লিচু গাছ থাকা যেন এই এলাকার ঐতিহ্য। এছাড়াও এসব বড়-ছোট লিচু বাগানের পাশেই চলছে লিচু উৎসব। গাছ থেকে যত্ন সহকারে পাকা লিচু ছিড়া, পরিচর্যা করা। এবং সেই সব লিচু গণনা করে বাজারজাত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগান মালিক, ইজারাদার ও শ্রমিকরা।

 

 

অপরদিকে কালীপুর রেজিস্ট্রি অফিসস্থ প্রধান সড়কের দুই পাশে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই লিচু বিক্রি করছেন। সড়কে প্রায় যানবাহন দাড়িয়ে তাদের থেকে সেই লিচু কিনছেন। খুচরা ও পাইকারী দামে যার যেমন ইচ্ছা ক্রয়-বিক্রয় করছেন। আবার পাশের স্কুলের মাঠের উত্তর-পূর্ব কোণে পাইকারি দরে লিচুর বেচাকেনা চলছিল। তাতে সারি সারি লিচু ভর্তি বাঁশের ঝুড়ি। আর সেই বাঁশের ঝুড়িতে সবুজ পাতার বিছানা। ওই ঝুড়িতে থাকা লাল ও সবুজ রঙের থোকা থোকা লিচু নজর কাড়ছে সবার। তাতে ভালো মানের লিচু পাইকারী দামে বিক্রি হচ্ছে প্রতি হাজার ২ থেকে ৩ হাজার টাকায়। অপরদিকে খুচরা বাজারে আকার অনুসারে একেকটি লিচু এক থেকে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।’

 

 

কৃষি অধিদপ্তর সূত্র জানা যায়, ‘বাঁশখালীতে প্রতিবছরই লিচু চাষ বাড়ছে। উপজেলার পুঁইছড়ি, চাম্বল, জলদী, কালীপুর, বৈলছড়ি, সাধনপুরের পাহাড়ি এলাকায় লিচু চাষ বেশি হয়। সবচেয়ে বেশি লিচু চাষ হয় কালীপুরে। কালীপুরের লিচুর কদর দেশজুড়ে। ২০২০ সালে ৬০০ হেক্টর, ২০২১ সালে ৭০০ হেক্টর, ২০২২ সালে ৭২০ হেক্টর, ২০২৩ সালে ৭৬০ হেক্টর লিচু চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও চলতি সালে ৬৩০ হেক্টর লিচু চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে বীজের গাছ হয় ২০১-২২০টি। কলমের নতুন জাতের চারা হয় ২৬০টি। বাঁশখালীতে স্থানীয় উন্নত জাতের কালীপুরী লিচু, বোম্বাই, চায়না-থ্রি, চায়না-টু, মোজাফ্ফরী লিচুর আবাদ হয়। ব্যবসায়িকভাবে চায়না-থ্রি ও চায়না-টু জাতের লিচু বেশি বিক্রি হয়। বাঁশখালীতে স্থানীয় জাতের লিচু যেটিকে কালীপুরী লিচু বলা হয় সেটির কদরই বেশি। চায়না থ্রি জাতের লিচুর শাঁস বড় কিন্তু বিচি ছোট। ফলনও আসে দেরিতে। কালীপুরের  লিচুর শাঁস ও বিচি ছোট হলেও আগেভাগেই ফলন আসে। যে কারণে বানিজ্যিকভাবে এ জাতের লিচু বিক্রি করে লিচু বাগান মালিকরা বেশি লাভবান হয়।’

 

 

স্থানীয়রা জানান, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন না হওয়ায় এ বছর লিচুর উৎপাদন হয়েছে বরাবরের চাইতে কয়েকগুণ বেশি। এতে লিচুর বাম্পার ফলন হলেও দামের কমতি নেই। ব্যাপক চাহিদা থাকায় লিচুর আকার ভেদে প্রতি ১০০ লিচু বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়। আবার অতিব ভালো মানের লিচু বিক্রি হচ্ছে ৫’শ থেকে ৬’শ টাকায়। তবে প্রথম দিকে দাম বেশি থাকলেও তা ধীরে ধীরে কমে আসবে। বর্তমানে উপজেলার অধিকাংশ হাট বাজারে কালীপুরের লিচু বিক্রি হচ্ছে। তাতে হাটবাজারে পাইকার ও খুচরা ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছে। আবার কেউ কেউ বিদেশে লিচু রপ্তানি করতে পাইকারী দামে ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে।’

 

কালীপুরের লিচু চাষী মোহাম্মদ হারুন বলেন, ‘রাস্তার কাছে বাগানের চেয়ে পাহাড়ি এলাকার বাগানগুলোতে ফলন বেশি হয়। গাছ থেকে লিচু ছেঁড়ার আগে পর্যন্ত বাগানের পরিচর্যা করতে হয়। প্রকৃতি অনুকূলে না থাকলে লিচুর ফলন কমে যায়। কালীপুরের লিচু সারাদেশেই যায়। আগেভাগে বাজারে আসার কারণে এই লিচুতে বেশি লাভবান হয় ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে প্রায় লিচু বাগান পাইকার ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়েছে। তাছাড়া অনেকেই মৌসুমী ব্যবসা হিসেবে লিচু বিক্রি করে। স্থানীয় পাইকাররা কালীপুর রেজিস্ট্রি অফিস এলাকাতেই বেশি লিচু বিক্রি করে। পাইকাররা ঢাকা-চট্টগ্রামসহ সারাদেশে নিয়ে যায়। এমনকি বিদেশেও রপ্তানি করে এ রসালো লিচু।

 

 

শুধুই কি বাঁশখালী। না, চট্টগ্রাম শহরেও পুরোদমে বিক্রি হচ্ছে কালীপুরের লিচু। শুক্রবার সন্ধায় চকবাজার ধইন্যার পুলে বাঁশখালীর লিচু নিয়ে বসেছিলেন খুচরা ব্যবসায়ী সৈয়দ মিয়া। এ সময় তিনি বলেন, ‘বাজারে কালীপুরের লিচুর বেশ কদর! আগাম ও সুস্বাদু হওয়ায় কালীপুরের লিচুর দামও বেশি, চাহিদাও বেশি। এখন ১০০ লিচু আকার ও রং ভেদে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। বাঁশখালীর লিচু শেষ হলেই চট্টগ্রামের বাজারে দিনাজপুর, রাজশাহীর লিচু উঠতে শুরু করবে।’

 

লিচুর পাইকার ব্যবসায়ী রহমত উল্লাহ বলেন, ‘এ বছর ১ কানি পরিমাণ লিচু বাগান ৫৫ হাজার টাকায় ক্রয় করেছি। বাগানে ৩০-৪০টা গাছ আছে। পরিবেশ অনুকূলে থাকলে উপযুক্ত দাম পেলে আশা করছি বাগান থেকে লিচু বিক্রি করে ৮০-৯০ হাজার টাকা আয় করতে পারবো। এখন লিচুর চাহিদা বেশি বাজারে। তাই চড়া দাম পাব বলে আশা করছি।’ অপর লিচু ব্যবসায়ী মো. ফরিদ বলেন, ‘আমি তিন লাখ টাকা দিয়ে একটি বাগান কিনেছি। লিচু পাকতে শুরু করায় তা সংগ্রহ করে বিক্রি করছি। এখন বাজার পুরোপুরি জমে ওঠেছে। লিচুর যেমন চাহিদা, তেমন দাম পাচ্ছি। তাই এখন বাজারে পুরোদমে লিচু বিক্রি হচ্ছে।’

 

 

কালীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আ.ন.ম শাহাদত আলম বলেন, ‘বাঁশখালীর অধিকাংশ লিচু আমার কালীপুর ইউনিয়নে উৎপাদিত হয়। এখানকার লিচু রসালো ও সুস্বাদু। তাই দূরদূরান্ত থেকে লিচু ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা এসে এখান থেকে লিচু নিয়ে যান। মে মাসে এখানে লিচু উৎসব হয়। এছাড়া এখানে লিচু ব্যবসায়ীরা ঝুঁকিহীনভাবে ব্যবসা করে থাকেন। পরিষদের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ী ও চাষিদের সব ধরনের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

 

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, ‘চলতি বছরে ৬৩০ হেক্টর লিচু চাষ হয়েছে বাঁশখালীতে। সব জায়গায় লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে অতিরিক্ত গরমে কিছু বাগানের লিচু ফেটে গেছে। এবার স্থানীয় জাত ছাড়াও উন্নত জাতের চার ধরনের লিচু চাষ হয়েছে, এর মধ্যে রাজশাহীর বোম্বে, বারি–১, ২, ৩ ও ৪ এবং চায়না–৩ জাতের লিচু রয়েছে। কালীপুর ছাড়াও আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর লিচু চাষ করা হয়েছে। সব জায়গায় লিচু আর লিচু। চলতি সপ্তাহে কালীপুরের লিচু পুরোপুরি বাজারে এসেছে। কালীপুরের লিচুর স্বাদ বেশি হওয়ায় চাহিদা বেশি, এতে চড়া দাম পাচ্ছে চাষীরা।’

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ‘কালীপুরের লিচু রসাল ও টসটসে। ভারী মিষ্টি ও সুস্বাদু। বাজারে এর চাহিদাও ভালো। এবার লিচুর বাম্পান ফলন হয়েছে। চাষিরা এবার লাভবান হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।’

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্য ইমেইল

প্রতি ১'শ লিচু বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা

পুরোদমে বাজারে এসেছে কালীপুরের রসালো লিচু

প্রকাশিত : ১১:২৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ মে ২০২৪

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা। লিচুর রাজ্য হিসেবে দেশ জুড়েই নাম ডাক রয়েছে এ উপজেলার। আর যার জন্যই নাম ডাক সেই লিচুকে কালীপুরের লিচু বলে। মে মাসের শুরুর দিক থেকে মে মাসের শেষ পর্যন্ত পাওয়া যায় এই রসালো লিচু। শুধুমাত্র ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত স্থায়ীত্ব হয় এই লিচুর বাজার। মুলত মে মাস ঘিরেই চলে চট্টগ্রামের বিখ্যাত কালীপুরের লিচু উৎসব। তাই বাঁশখালীর কালীপুরের লিচুর কদরটাই আলাদা। 

 

সরেজমিনে, বাঁশখালী উপজেলার কালীপুরের বিভিন্ন লিচু বাগান ঘুরে দেখা যায়, ‘বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে লাল রঙের লিচু। বিগত বছরের তুলনায় এ বছর লিচু ধরেছে বেশ। তাতে উঁচুনিচু পাহাড়ের সারিতে লাগানো ঝুপড়ি গাছের শাখা-প্রশাখায় লিচু আর লিচু। শুধু কি বানিজ্যিক লিচু চাষের বাগান.? না! সড়কের পাশে, বাড়ির উঠানে ও লোকালয়ে সব জায়গায় দুই-একটা করে লিচু গাছ রয়েছে। প্রতি বাড়িতেই লিচু গাছ থাকা যেন এই এলাকার ঐতিহ্য। এছাড়াও এসব বড়-ছোট লিচু বাগানের পাশেই চলছে লিচু উৎসব। গাছ থেকে যত্ন সহকারে পাকা লিচু ছিড়া, পরিচর্যা করা। এবং সেই সব লিচু গণনা করে বাজারজাত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগান মালিক, ইজারাদার ও শ্রমিকরা।

 

 

অপরদিকে কালীপুর রেজিস্ট্রি অফিসস্থ প্রধান সড়কের দুই পাশে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই লিচু বিক্রি করছেন। সড়কে প্রায় যানবাহন দাড়িয়ে তাদের থেকে সেই লিচু কিনছেন। খুচরা ও পাইকারী দামে যার যেমন ইচ্ছা ক্রয়-বিক্রয় করছেন। আবার পাশের স্কুলের মাঠের উত্তর-পূর্ব কোণে পাইকারি দরে লিচুর বেচাকেনা চলছিল। তাতে সারি সারি লিচু ভর্তি বাঁশের ঝুড়ি। আর সেই বাঁশের ঝুড়িতে সবুজ পাতার বিছানা। ওই ঝুড়িতে থাকা লাল ও সবুজ রঙের থোকা থোকা লিচু নজর কাড়ছে সবার। তাতে ভালো মানের লিচু পাইকারী দামে বিক্রি হচ্ছে প্রতি হাজার ২ থেকে ৩ হাজার টাকায়। অপরদিকে খুচরা বাজারে আকার অনুসারে একেকটি লিচু এক থেকে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।’

 

 

কৃষি অধিদপ্তর সূত্র জানা যায়, ‘বাঁশখালীতে প্রতিবছরই লিচু চাষ বাড়ছে। উপজেলার পুঁইছড়ি, চাম্বল, জলদী, কালীপুর, বৈলছড়ি, সাধনপুরের পাহাড়ি এলাকায় লিচু চাষ বেশি হয়। সবচেয়ে বেশি লিচু চাষ হয় কালীপুরে। কালীপুরের লিচুর কদর দেশজুড়ে। ২০২০ সালে ৬০০ হেক্টর, ২০২১ সালে ৭০০ হেক্টর, ২০২২ সালে ৭২০ হেক্টর, ২০২৩ সালে ৭৬০ হেক্টর লিচু চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও চলতি সালে ৬৩০ হেক্টর লিচু চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে বীজের গাছ হয় ২০১-২২০টি। কলমের নতুন জাতের চারা হয় ২৬০টি। বাঁশখালীতে স্থানীয় উন্নত জাতের কালীপুরী লিচু, বোম্বাই, চায়না-থ্রি, চায়না-টু, মোজাফ্ফরী লিচুর আবাদ হয়। ব্যবসায়িকভাবে চায়না-থ্রি ও চায়না-টু জাতের লিচু বেশি বিক্রি হয়। বাঁশখালীতে স্থানীয় জাতের লিচু যেটিকে কালীপুরী লিচু বলা হয় সেটির কদরই বেশি। চায়না থ্রি জাতের লিচুর শাঁস বড় কিন্তু বিচি ছোট। ফলনও আসে দেরিতে। কালীপুরের  লিচুর শাঁস ও বিচি ছোট হলেও আগেভাগেই ফলন আসে। যে কারণে বানিজ্যিকভাবে এ জাতের লিচু বিক্রি করে লিচু বাগান মালিকরা বেশি লাভবান হয়।’

 

 

স্থানীয়রা জানান, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন না হওয়ায় এ বছর লিচুর উৎপাদন হয়েছে বরাবরের চাইতে কয়েকগুণ বেশি। এতে লিচুর বাম্পার ফলন হলেও দামের কমতি নেই। ব্যাপক চাহিদা থাকায় লিচুর আকার ভেদে প্রতি ১০০ লিচু বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়। আবার অতিব ভালো মানের লিচু বিক্রি হচ্ছে ৫’শ থেকে ৬’শ টাকায়। তবে প্রথম দিকে দাম বেশি থাকলেও তা ধীরে ধীরে কমে আসবে। বর্তমানে উপজেলার অধিকাংশ হাট বাজারে কালীপুরের লিচু বিক্রি হচ্ছে। তাতে হাটবাজারে পাইকার ও খুচরা ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছে। আবার কেউ কেউ বিদেশে লিচু রপ্তানি করতে পাইকারী দামে ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে।’

 

কালীপুরের লিচু চাষী মোহাম্মদ হারুন বলেন, ‘রাস্তার কাছে বাগানের চেয়ে পাহাড়ি এলাকার বাগানগুলোতে ফলন বেশি হয়। গাছ থেকে লিচু ছেঁড়ার আগে পর্যন্ত বাগানের পরিচর্যা করতে হয়। প্রকৃতি অনুকূলে না থাকলে লিচুর ফলন কমে যায়। কালীপুরের লিচু সারাদেশেই যায়। আগেভাগে বাজারে আসার কারণে এই লিচুতে বেশি লাভবান হয় ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে প্রায় লিচু বাগান পাইকার ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়েছে। তাছাড়া অনেকেই মৌসুমী ব্যবসা হিসেবে লিচু বিক্রি করে। স্থানীয় পাইকাররা কালীপুর রেজিস্ট্রি অফিস এলাকাতেই বেশি লিচু বিক্রি করে। পাইকাররা ঢাকা-চট্টগ্রামসহ সারাদেশে নিয়ে যায়। এমনকি বিদেশেও রপ্তানি করে এ রসালো লিচু।

 

 

শুধুই কি বাঁশখালী। না, চট্টগ্রাম শহরেও পুরোদমে বিক্রি হচ্ছে কালীপুরের লিচু। শুক্রবার সন্ধায় চকবাজার ধইন্যার পুলে বাঁশখালীর লিচু নিয়ে বসেছিলেন খুচরা ব্যবসায়ী সৈয়দ মিয়া। এ সময় তিনি বলেন, ‘বাজারে কালীপুরের লিচুর বেশ কদর! আগাম ও সুস্বাদু হওয়ায় কালীপুরের লিচুর দামও বেশি, চাহিদাও বেশি। এখন ১০০ লিচু আকার ও রং ভেদে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। বাঁশখালীর লিচু শেষ হলেই চট্টগ্রামের বাজারে দিনাজপুর, রাজশাহীর লিচু উঠতে শুরু করবে।’

 

লিচুর পাইকার ব্যবসায়ী রহমত উল্লাহ বলেন, ‘এ বছর ১ কানি পরিমাণ লিচু বাগান ৫৫ হাজার টাকায় ক্রয় করেছি। বাগানে ৩০-৪০টা গাছ আছে। পরিবেশ অনুকূলে থাকলে উপযুক্ত দাম পেলে আশা করছি বাগান থেকে লিচু বিক্রি করে ৮০-৯০ হাজার টাকা আয় করতে পারবো। এখন লিচুর চাহিদা বেশি বাজারে। তাই চড়া দাম পাব বলে আশা করছি।’ অপর লিচু ব্যবসায়ী মো. ফরিদ বলেন, ‘আমি তিন লাখ টাকা দিয়ে একটি বাগান কিনেছি। লিচু পাকতে শুরু করায় তা সংগ্রহ করে বিক্রি করছি। এখন বাজার পুরোপুরি জমে ওঠেছে। লিচুর যেমন চাহিদা, তেমন দাম পাচ্ছি। তাই এখন বাজারে পুরোদমে লিচু বিক্রি হচ্ছে।’

 

 

কালীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আ.ন.ম শাহাদত আলম বলেন, ‘বাঁশখালীর অধিকাংশ লিচু আমার কালীপুর ইউনিয়নে উৎপাদিত হয়। এখানকার লিচু রসালো ও সুস্বাদু। তাই দূরদূরান্ত থেকে লিচু ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা এসে এখান থেকে লিচু নিয়ে যান। মে মাসে এখানে লিচু উৎসব হয়। এছাড়া এখানে লিচু ব্যবসায়ীরা ঝুঁকিহীনভাবে ব্যবসা করে থাকেন। পরিষদের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ী ও চাষিদের সব ধরনের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

 

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, ‘চলতি বছরে ৬৩০ হেক্টর লিচু চাষ হয়েছে বাঁশখালীতে। সব জায়গায় লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে অতিরিক্ত গরমে কিছু বাগানের লিচু ফেটে গেছে। এবার স্থানীয় জাত ছাড়াও উন্নত জাতের চার ধরনের লিচু চাষ হয়েছে, এর মধ্যে রাজশাহীর বোম্বে, বারি–১, ২, ৩ ও ৪ এবং চায়না–৩ জাতের লিচু রয়েছে। কালীপুর ছাড়াও আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর লিচু চাষ করা হয়েছে। সব জায়গায় লিচু আর লিচু। চলতি সপ্তাহে কালীপুরের লিচু পুরোপুরি বাজারে এসেছে। কালীপুরের লিচুর স্বাদ বেশি হওয়ায় চাহিদা বেশি, এতে চড়া দাম পাচ্ছে চাষীরা।’

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ‘কালীপুরের লিচু রসাল ও টসটসে। ভারী মিষ্টি ও সুস্বাদু। বাজারে এর চাহিদাও ভালো। এবার লিচুর বাম্পান ফলন হয়েছে। চাষিরা এবার লাভবান হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।’