ঢাকা , সোমবার, ২০ মে ২০২৪

প্রথম দিনে ঢাকায় যা যা করলেন ডোনাল্ড লু

তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু। মঙ্গলবার (১৪ মে) বেলা ১১টার দিকে কলম্বো থেকে ঢাকায় আসেন তিনি। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উত্তর আমেরিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালক খন্দকার মাসুদুল আলম।

 

ঢাকা সফরের প্রথমদিনে বেশ ব্যস্ত সময় পার করেছেন লু। সফরের শুরুতেই আজ দেশের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে করেছেন তিনি। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের গুলশানের বাসায় এ বৈঠক হয়।

 

 

ডোনাল্ড লুর সঙ্গে এই বৈঠকে গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, শ্রমিক নেতা ও জলবায়ু কর্মীরা অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, শ্রমিক নেত্রী কল্পনা আখতার, শ্রমিক নেতা বাবুল আখতার, জলবায়ু কর্মী সোহানুর রহমান এবং মানবাধিকার কর্মী নুর খান লিটন।

 

বৈঠকে মূলত দেশের নির্বাচন পরবর্তী সময়ের পরিস্থিতি নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

 

 

বৈঠক শেষে জলবায়ু বিষয়ক অ্যাক্টিভিস্ট সোহানুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন পরবর্তী গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, শ্রমনীতির অগ্রগতি, জলবায়ু সংকটসহ নানা বিষয়ে কথা হয়েছে। সোহান জানান, বৈঠকে গণমাধ্যম যেন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে সে বিষয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন লু। এছাড়া ফিলিস্তিনি হত্যার নিন্দা জানিয়েছে প্রতিনিধি দল। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও তরুণদের উপকূলীয় এলাকা রক্ষায় লু আহ্বান জানিয়েছেন বলেও জানান সোহান।

 

 

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের (ডিএসএ) প্রসঙ্গটি উঠেছে। এ সময় ডিএসএ উদ্বেগের কথা জানান মার্কিন এ প্রতিনিধি।

 

তবে বৈঠকে গণমাধ্যম ইস্যুতে কথা হলেও সে সব বিষয়ে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের সম্পাদক সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ছাড়াও এই বৈঠকে কয়েকজন বিদেশি কূটনৈতিকও অংশ নেন। এদের মধ্যে ছিলেন আমেরিকার দক্ষিণ ও এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর চিফ অফিস স্টাফ ন্যাথানিয়াল হাফট, ব্যুরো অব ইন্টেলিজেন্ট অ্যান্ড রিসার্চের বিশ্লেষক সারাহ আল্ডরিচ, মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস, ইউএসএআইডির মিশন ডিরেক্টর রীড এসলিম্যান, পলিটিক্যাল কাউন্সিলর আর্তুরো হাইনস, ডেপুটি পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কাউন্সিল শ্যারন ফিটজগ্যারল্ড, পলিটিক্যাল অ্যাটাচ ম্যাথিউ বেহ এবং জার্মান রাষ্ট্রদূত আছিম ট্রোস্টার।

 

 

পরে রাতে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন ডোনাল্ড লু। রাত সোয়া ৮টায় সালমান এফ রহমানের বাসভবনে পৌঁছায় তার গাড়িবহর।

 

নৈশভোজে ডোনাল্ড লুর সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যুরো অব সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়ান অ্যাফেয়ার্স প্রধান নেট হ্যাফট ও পলিটিক্যাল ইউনিট প্রধান সারাহ আলদ্রিস। আরও ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ও দূতাবাসের কয়েকজন কর্মকর্তা।

 

 

সালমান এফ রহমানের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের পক্ষে অংশ নেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র মাসুদ বিন মোমেন।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আগামীকাল সকালে ইএমকে সেন্টারে যাবেন ডোনাল্ড লু। সেখান থেকে সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি। এর পর সেখান থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সেখান থেকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন ডোনাল্ড লু।

 

 

বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রথমবার ঢাকা সফরে এলেন আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ এ কর্মকর্তা। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক জোরদার ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কের রূপরেখা নিয়ে আলোচনার জন্যই তার এ সফর।

 

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটিই মার্কিন উচ্চপর্যায়ের প্রথম সফর। এর আগে, গত বছরের জুলাইয়ে সর্বশেষ বাংলাদেশ সফর করেন ডোনাল্ড লু। তখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি আজরা জেয়ার সঙ্গী হয়ে ঢাকায় আসেন।

 

 

আগামী বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সকালে লু ঢাকা ছাড়বেন বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

 

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্য ইমেইল

প্রথম দিনে ঢাকায় যা যা করলেন ডোনাল্ড লু

প্রকাশিত : ১১:৫৮:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০২৪

তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু। মঙ্গলবার (১৪ মে) বেলা ১১টার দিকে কলম্বো থেকে ঢাকায় আসেন তিনি। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উত্তর আমেরিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালক খন্দকার মাসুদুল আলম।

 

ঢাকা সফরের প্রথমদিনে বেশ ব্যস্ত সময় পার করেছেন লু। সফরের শুরুতেই আজ দেশের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে করেছেন তিনি। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের গুলশানের বাসায় এ বৈঠক হয়।

 

 

ডোনাল্ড লুর সঙ্গে এই বৈঠকে গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, শ্রমিক নেতা ও জলবায়ু কর্মীরা অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, শ্রমিক নেত্রী কল্পনা আখতার, শ্রমিক নেতা বাবুল আখতার, জলবায়ু কর্মী সোহানুর রহমান এবং মানবাধিকার কর্মী নুর খান লিটন।

 

বৈঠকে মূলত দেশের নির্বাচন পরবর্তী সময়ের পরিস্থিতি নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

 

 

বৈঠক শেষে জলবায়ু বিষয়ক অ্যাক্টিভিস্ট সোহানুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন পরবর্তী গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, শ্রমনীতির অগ্রগতি, জলবায়ু সংকটসহ নানা বিষয়ে কথা হয়েছে। সোহান জানান, বৈঠকে গণমাধ্যম যেন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে সে বিষয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন লু। এছাড়া ফিলিস্তিনি হত্যার নিন্দা জানিয়েছে প্রতিনিধি দল। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও তরুণদের উপকূলীয় এলাকা রক্ষায় লু আহ্বান জানিয়েছেন বলেও জানান সোহান।

 

 

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের (ডিএসএ) প্রসঙ্গটি উঠেছে। এ সময় ডিএসএ উদ্বেগের কথা জানান মার্কিন এ প্রতিনিধি।

 

তবে বৈঠকে গণমাধ্যম ইস্যুতে কথা হলেও সে সব বিষয়ে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের সম্পাদক সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ছাড়াও এই বৈঠকে কয়েকজন বিদেশি কূটনৈতিকও অংশ নেন। এদের মধ্যে ছিলেন আমেরিকার দক্ষিণ ও এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর চিফ অফিস স্টাফ ন্যাথানিয়াল হাফট, ব্যুরো অব ইন্টেলিজেন্ট অ্যান্ড রিসার্চের বিশ্লেষক সারাহ আল্ডরিচ, মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস, ইউএসএআইডির মিশন ডিরেক্টর রীড এসলিম্যান, পলিটিক্যাল কাউন্সিলর আর্তুরো হাইনস, ডেপুটি পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কাউন্সিল শ্যারন ফিটজগ্যারল্ড, পলিটিক্যাল অ্যাটাচ ম্যাথিউ বেহ এবং জার্মান রাষ্ট্রদূত আছিম ট্রোস্টার।

 

 

পরে রাতে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন ডোনাল্ড লু। রাত সোয়া ৮টায় সালমান এফ রহমানের বাসভবনে পৌঁছায় তার গাড়িবহর।

 

নৈশভোজে ডোনাল্ড লুর সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যুরো অব সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়ান অ্যাফেয়ার্স প্রধান নেট হ্যাফট ও পলিটিক্যাল ইউনিট প্রধান সারাহ আলদ্রিস। আরও ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ও দূতাবাসের কয়েকজন কর্মকর্তা।

 

 

সালমান এফ রহমানের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের পক্ষে অংশ নেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র মাসুদ বিন মোমেন।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আগামীকাল সকালে ইএমকে সেন্টারে যাবেন ডোনাল্ড লু। সেখান থেকে সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি। এর পর সেখান থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সেখান থেকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন ডোনাল্ড লু।

 

 

বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রথমবার ঢাকা সফরে এলেন আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ এ কর্মকর্তা। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক জোরদার ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কের রূপরেখা নিয়ে আলোচনার জন্যই তার এ সফর।

 

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটিই মার্কিন উচ্চপর্যায়ের প্রথম সফর। এর আগে, গত বছরের জুলাইয়ে সর্বশেষ বাংলাদেশ সফর করেন ডোনাল্ড লু। তখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি আজরা জেয়ার সঙ্গী হয়ে ঢাকায় আসেন।

 

 

আগামী বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সকালে লু ঢাকা ছাড়বেন বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।