ঢাকা , সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪

মিয়ানমারে ৮৬ শতাংশ বিদ্রোহীদের দখলে

মিয়ানমারের ৮৬ শতাংশ শহর ও গ্রামের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে বিদ্রোহীরা। দেশটির মোট জনসংখ্যার ৬৭ শতাংশের বসবাস এসব এলাকায়। আন্তর্জাতিক দুই থিঙ্কট্যাংক সংস্থা স্পেশাল অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল ফর মিয়ানমার (স্যাক-এম) অ্যাড এবং ক্রাইসিস গ্রুপের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।

 

স্যাক-এমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে জান্তাবিরোধী বিদ্রোহ আরও সুসংগঠিত হচ্ছে। সময় যত যাচ্ছে, বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং দুর্বল হয়ে পড়ছে জান্তা সরকার।

 

 

২০২১ সালে মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। মিয়ানমারজুড়ে শুরু হয় গণবিক্ষোভ। বিক্ষোভ দমনে নির্বিচারে গুলি চালায় জান্তা সরকার। জনবিক্ষোভ এক সময় রূপ নেয় গৃহযুদ্ধে। আর এই গৃহযুদ্ধে বিদ্রোহীদের নেতৃত্ব দিচ্ছে দেশটির জাতিগত-সংখ্যালঘু সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো।

 

প্রথমদিকে বিদ্রোহীরা জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও ধীরে ধীরে সুসংগঠিত হয় তারা। একসময় বিভিন্ন এলাকার দখল নিতে থাকে তারা। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রিত এলাকার সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে অধিকাংশ সংঘাতে পরাজিত হতে হতে বেকায়দায় রয়েছে জান্তা বাহিনী।

 

 

বৃহস্পতিবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্যাক-এমের গবেষকরা বলেন, শাসক হিসেবে ন্যূনতম যেসব দায়িত্ব পালন করা উচিত, মিয়ানমারের অধিকাংশ এলাকায় সেসবও পালন করতে পারছে না জান্তা। দেশটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এখন বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে এবং এর ফলে ব্যাপক চাপে পড়া জান্তাগোষ্ঠী এখন আক্রমণাত্মক অবস্থান ছেড়ে রক্ষণাত্মক ভূমিকা নিতে বাধ্য হচ্ছে।

 

 

এদিকে ক্রাইসিস গ্রুপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত আট মাসে অধিকাংশ সংঘাতে বিজয় মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আরও সংগঠিত হয়েছে। এমনকি মিয়ানমার-থাইল্যান্ড এবং মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তও এখন তাদের দখলে।

 

গত বছর অক্টোবরে জান্তাবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে মিয়ানমারের বিভিন্ন প্রদেশ ও শহরের দখল নিতে যুদ্ধ শুরু করে। গত প্রায় আট মাস ধরে চলমান এই যুদ্ধে দেশের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্রোহীরা বিজয়ী হয়েছে এবং তাদের এই ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে নিজেদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে ক্রাইসিস গ্রুপ।

 

 

বিদ্রোহীদের একের পর এক বিজয় রাজধানী নেইপিদোর অভিজাতদের মধ্যে হতাশা বাড়িয়ে তুলছে এবং মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইংয়ের ভবিষ্যৎকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে মন্তব্য করা হয়েছে ক্রাইসিস গ্রুপের প্রতিবেদনে।

 

 

বিবৃতিতে ক্রাইসিস গ্রুপ বলেছে, শিগগিরই হয়তো তার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা নেই, কিন্তু যদি তাকে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়, তাহলে তা ঠেকানোর সাধ্যও তার নেই। থিঙ্কট্যাংক সংস্থার এই প্রতিবেদনের ব্যাপারে মন্তব্য চেয়ে জান্তা মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। কিন্তু কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্য ইমেইল

মিয়ানমারে ৮৬ শতাংশ বিদ্রোহীদের দখলে

প্রকাশিত : ০২:২৩:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ জুন ২০২৪

মিয়ানমারের ৮৬ শতাংশ শহর ও গ্রামের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে বিদ্রোহীরা। দেশটির মোট জনসংখ্যার ৬৭ শতাংশের বসবাস এসব এলাকায়। আন্তর্জাতিক দুই থিঙ্কট্যাংক সংস্থা স্পেশাল অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল ফর মিয়ানমার (স্যাক-এম) অ্যাড এবং ক্রাইসিস গ্রুপের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।

 

স্যাক-এমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে জান্তাবিরোধী বিদ্রোহ আরও সুসংগঠিত হচ্ছে। সময় যত যাচ্ছে, বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং দুর্বল হয়ে পড়ছে জান্তা সরকার।

 

 

২০২১ সালে মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। মিয়ানমারজুড়ে শুরু হয় গণবিক্ষোভ। বিক্ষোভ দমনে নির্বিচারে গুলি চালায় জান্তা সরকার। জনবিক্ষোভ এক সময় রূপ নেয় গৃহযুদ্ধে। আর এই গৃহযুদ্ধে বিদ্রোহীদের নেতৃত্ব দিচ্ছে দেশটির জাতিগত-সংখ্যালঘু সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো।

 

প্রথমদিকে বিদ্রোহীরা জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও ধীরে ধীরে সুসংগঠিত হয় তারা। একসময় বিভিন্ন এলাকার দখল নিতে থাকে তারা। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রিত এলাকার সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে অধিকাংশ সংঘাতে পরাজিত হতে হতে বেকায়দায় রয়েছে জান্তা বাহিনী।

 

 

বৃহস্পতিবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্যাক-এমের গবেষকরা বলেন, শাসক হিসেবে ন্যূনতম যেসব দায়িত্ব পালন করা উচিত, মিয়ানমারের অধিকাংশ এলাকায় সেসবও পালন করতে পারছে না জান্তা। দেশটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এখন বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে এবং এর ফলে ব্যাপক চাপে পড়া জান্তাগোষ্ঠী এখন আক্রমণাত্মক অবস্থান ছেড়ে রক্ষণাত্মক ভূমিকা নিতে বাধ্য হচ্ছে।

 

 

এদিকে ক্রাইসিস গ্রুপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত আট মাসে অধিকাংশ সংঘাতে বিজয় মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আরও সংগঠিত হয়েছে। এমনকি মিয়ানমার-থাইল্যান্ড এবং মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তও এখন তাদের দখলে।

 

গত বছর অক্টোবরে জান্তাবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে মিয়ানমারের বিভিন্ন প্রদেশ ও শহরের দখল নিতে যুদ্ধ শুরু করে। গত প্রায় আট মাস ধরে চলমান এই যুদ্ধে দেশের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্রোহীরা বিজয়ী হয়েছে এবং তাদের এই ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে নিজেদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে ক্রাইসিস গ্রুপ।

 

 

বিদ্রোহীদের একের পর এক বিজয় রাজধানী নেইপিদোর অভিজাতদের মধ্যে হতাশা বাড়িয়ে তুলছে এবং মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইংয়ের ভবিষ্যৎকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে মন্তব্য করা হয়েছে ক্রাইসিস গ্রুপের প্রতিবেদনে।

 

 

বিবৃতিতে ক্রাইসিস গ্রুপ বলেছে, শিগগিরই হয়তো তার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা নেই, কিন্তু যদি তাকে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়, তাহলে তা ঠেকানোর সাধ্যও তার নেই। থিঙ্কট্যাংক সংস্থার এই প্রতিবেদনের ব্যাপারে মন্তব্য চেয়ে জান্তা মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। কিন্তু কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।