ঢাকা , সোমবার, ২০ মে ২০২৪
তখন সবার মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছিলো

শেষ মুহূর্তে খুবই অস্থির ছিল সোমালীয় জলদস্যুরা: আতিকুল্লাহ

বাংলাদেশি পাতাকাবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ জিম্মি হওয়ার পর ভারী অস্ত্র হাতে যতই ভয়ংকর রূপ দেখা গেছে সোমালীয় জলদস্যুদের, শেষ দিকে জাহাজ থেকে নিরাপদে বের হতে ঠিক ততটাই অস্থির হয়ে পড়েন তারা। জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর চট্টগ্রামে ফিরে এমটাই জানিয়েছেন চিফ অফিসার আতিকুল্লাহ খান।

 

মঙ্গলবার (১৪ মে) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল-১ (এনসিটি) নম্বর এসে পৌঁছায় নাবিকরা। সেখানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নাবিকদের নিয়ে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। তাদের বরণ করতে উপস্থিত হন স্বজনরা। পাশাপাশি কেএসআরএমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। নাবিকদের ফেরার মধ্যে দিয়ে স্বজন-পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষা অবসান হয়েছে।

 

 

এসময় চিফ অফিসার আতিকুল্লাহ খান বলেন, শেষ মুহূর্তে এমভি আবদুল্লাহ থেকে জলদস্যুদরে নিরাপদে পালানোর লক্ষ্য ছিল। যেদিন জলদস্যুরা জাহাজ থেকে নামবে সেদিন তাদের অনেক বেশি অস্থির দেখাচ্ছিল। তারা ইনসিকিউরিটি (অনিরাপদ) ফিল করছিল। যাওয়ার সময় আমি তাদের একটা কথাই বলেছি, আমি তোমাদের আর কখনোই দেখতে চাই না।

 

এদিকে ঈদে বাবাকে কাছে পাননি জলদস্যুদের কবলে পড়া বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর চিফ অফিসার আতিকুল্লাহ খানে ছোট্ট দুই মেয়ে ইয়াশরা ফাতেমা ও উমাইজা মাহদিন। তাই বাবাকে কাছে পেয়ে তারা আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন। বাবা আসার খবরে দুই হাতে এনেছিল ফুল। পড়েছিল রঙিন জামা। যখনই বাবাকে কাছে পায় তারা দৌড়ে গিয়ে চুমুতে ভরিয়ে দেয় বাবার গাল। বাবা আতিকুল্লাহও দুই রাজকন্যাকে বুকে আগলে রাখেন কিছুক্ষণ। বাবা-মেয়ের এমন ভালোবাসায় আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন উপস্থিত অনেকেই।

 

 

নাবিকরা জানান, বন্দিদশার শুরুর দিকে অভিজ্ঞতা ছিল ভয়াবহ। এসময় তারা জীবন নিয়ে ফিরতে না পারা সংশয়ে ছিলেন। সবসময় একে-৪৭ সহ অনেক ভারী ভারী অস্ত্র নিয়ে পাহারা বসাতো জলদস্যুরা। কৌশলগত কারণে নাবিকরা জলদস্যুদের সহায়তা করতেন, জলদস্যুরা যেমনটা বলতেন তেমনটাই শুনতেন। তবে এত তাড়াতাড়ি যে তারা ফিরতে পারবেন এটা কখনো কল্পনা করেনি অনেকেই। অনেকের মনে মনে শঙ্কা ছিল এই যাত্রায় হয়ত শেষযাত্রা। তবে শেষ মুহূর্তে ফিরতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সবাই।

 

 

এর আগে গত ১২ মার্চ সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হয় এমভি আবদুল্লাহ। প্রায় ১ মাস পর গত ১৪ এপ্রিল ভোরে জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্ত হয় ২৩ নাবিক। এরপর জাহাজটি পৌঁছে দুবাইয়ের আল হামরিয়া বন্দরে। সেখান থেকে মিনা সাকার নামের আরেকটি বন্দরে চুনা পাথরভর্তি করার পর চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয়। সবমিলিয়ে ৬৫ দিন পর মুক্ত নাবিকরা চট্টগ্রামে ফিরেছেন।

 

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্য ইমেইল

তখন সবার মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছিলো

শেষ মুহূর্তে খুবই অস্থির ছিল সোমালীয় জলদস্যুরা: আতিকুল্লাহ

প্রকাশিত : ১১:৪৩:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০২৪

বাংলাদেশি পাতাকাবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ জিম্মি হওয়ার পর ভারী অস্ত্র হাতে যতই ভয়ংকর রূপ দেখা গেছে সোমালীয় জলদস্যুদের, শেষ দিকে জাহাজ থেকে নিরাপদে বের হতে ঠিক ততটাই অস্থির হয়ে পড়েন তারা। জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর চট্টগ্রামে ফিরে এমটাই জানিয়েছেন চিফ অফিসার আতিকুল্লাহ খান।

 

মঙ্গলবার (১৪ মে) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল-১ (এনসিটি) নম্বর এসে পৌঁছায় নাবিকরা। সেখানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নাবিকদের নিয়ে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। তাদের বরণ করতে উপস্থিত হন স্বজনরা। পাশাপাশি কেএসআরএমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। নাবিকদের ফেরার মধ্যে দিয়ে স্বজন-পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষা অবসান হয়েছে।

 

 

এসময় চিফ অফিসার আতিকুল্লাহ খান বলেন, শেষ মুহূর্তে এমভি আবদুল্লাহ থেকে জলদস্যুদরে নিরাপদে পালানোর লক্ষ্য ছিল। যেদিন জলদস্যুরা জাহাজ থেকে নামবে সেদিন তাদের অনেক বেশি অস্থির দেখাচ্ছিল। তারা ইনসিকিউরিটি (অনিরাপদ) ফিল করছিল। যাওয়ার সময় আমি তাদের একটা কথাই বলেছি, আমি তোমাদের আর কখনোই দেখতে চাই না।

 

এদিকে ঈদে বাবাকে কাছে পাননি জলদস্যুদের কবলে পড়া বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর চিফ অফিসার আতিকুল্লাহ খানে ছোট্ট দুই মেয়ে ইয়াশরা ফাতেমা ও উমাইজা মাহদিন। তাই বাবাকে কাছে পেয়ে তারা আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন। বাবা আসার খবরে দুই হাতে এনেছিল ফুল। পড়েছিল রঙিন জামা। যখনই বাবাকে কাছে পায় তারা দৌড়ে গিয়ে চুমুতে ভরিয়ে দেয় বাবার গাল। বাবা আতিকুল্লাহও দুই রাজকন্যাকে বুকে আগলে রাখেন কিছুক্ষণ। বাবা-মেয়ের এমন ভালোবাসায় আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন উপস্থিত অনেকেই।

 

 

নাবিকরা জানান, বন্দিদশার শুরুর দিকে অভিজ্ঞতা ছিল ভয়াবহ। এসময় তারা জীবন নিয়ে ফিরতে না পারা সংশয়ে ছিলেন। সবসময় একে-৪৭ সহ অনেক ভারী ভারী অস্ত্র নিয়ে পাহারা বসাতো জলদস্যুরা। কৌশলগত কারণে নাবিকরা জলদস্যুদের সহায়তা করতেন, জলদস্যুরা যেমনটা বলতেন তেমনটাই শুনতেন। তবে এত তাড়াতাড়ি যে তারা ফিরতে পারবেন এটা কখনো কল্পনা করেনি অনেকেই। অনেকের মনে মনে শঙ্কা ছিল এই যাত্রায় হয়ত শেষযাত্রা। তবে শেষ মুহূর্তে ফিরতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সবাই।

 

 

এর আগে গত ১২ মার্চ সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হয় এমভি আবদুল্লাহ। প্রায় ১ মাস পর গত ১৪ এপ্রিল ভোরে জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্ত হয় ২৩ নাবিক। এরপর জাহাজটি পৌঁছে দুবাইয়ের আল হামরিয়া বন্দরে। সেখান থেকে মিনা সাকার নামের আরেকটি বন্দরে চুনা পাথরভর্তি করার পর চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয়। সবমিলিয়ে ৬৫ দিন পর মুক্ত নাবিকরা চট্টগ্রামে ফিরেছেন।