ঢাকা , সোমবার, ২০ মে ২০২৪
আগামী মৌসুমে এমবাপ্পের মাদ্রিদে আসার ঘোষণা

সমর্থকদের সঙ্গে নেচে-গেয়ে মাদ্রিদের শিরোপা উদযাপন

Oplus_131072

মৌসুমের শুরুতেও যাদের শিরোপা জেতার সামর্থ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। সেই রিয়াল মাদ্রিদ চার ম্যাচ হাতে রেখে গত সপ্তাহেই লা লিগার চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছে। তবে তাদের হাতে শিরোপা পৌঁছালো পরের সপ্তাহে।

 

আজ রোববার ক্লাবের ট্রেনিং গ্রাউন্ড ভালদেবেবেবাদে লস ব্ল্যাঙ্কোসদের হাতে তুলে দেওয়া হয় লিগা শিরোপা।

 

 

সেই ট্রফি নিয়ে তারা মাদ্রিদের সিটি হলে করল ফটোসেশন। এরপর ছাদ খোলা বাসে নেচে-গেয়ে মাদ্রিদের বিখ্যাত সিবেলেস স্কয়ারে যান ভিনিসিয়ুস-বেলিংহামরা।

 

তাদের সঙ্গে ছিলেন রিয়াল প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ ও শিরোপা জেতানো কোচ কার্লো আনচেলত্তি। মাদ্রিদের রাস্তায় তাদের অপেক্ষায় ছিলেন প্রায় ৫ লাখ সমর্থক।

 

 

রাস্তায় নেমে বাসের ছাদে দাঁড়িয়ে সমর্থকদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের জবাব হাত নেড়ে ও উড়ন্ত চুমোতে দেন রিয়ালের খেলোয়াড়রা। মদ্রিচ, নাচো, ক্রুস ও কারভাহালরা তুলে ধরেন লিগ শিরোপা। তবে সবচেয়ে ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন সম্ভবত আনচেলত্তি। হাতে বিখ্যাত সিগার নিয়ে ছবি তোলার জন্য পোজ দিলেন, আবার কিছুক্ষণের জন্য হয়ে গেলেন ডিজেও। মাইক্রোফোন হাতে গাইলেন রিয়াল মাদ্রিদের ঐতিহ্যবাহী গান ‘দেসিমা’। ইতালিয়ান কোচ নিজে নাচলেন কাভাভিঙ্গার সঙ্গে, পরে নাচালেন দলের বাকিদেরও।

 

 

রিয়ালের উদযাপনে ছিল চ্যাম্পিয়নস লিগের ছোঁয়াও। আগামী ১ জুন চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের মুখোমুখি হবে রিয়াল। সেই ম্যাচ জিতে আবার মাদ্রিদের রাস্তায় উৎসব করার সুযোগ অপেক্ষা করছে তাদের সামনে। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে শেষ মুহূর্তে জোড়া গোল করে চমকে দেওয়া হুসেলো ছিলেন আজকের উৎসবের মধ্যমণি হয়ে। অনেক সমর্থক তাকে থেকে যাওয়ার অনুরোধ জানান।

 

এদিকে মদ্রিচ, ক্রুস ও নাচোর জন্য এটাই হয়তো রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে শেষ মৌসুম। যদিও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে তাদের উদযাপনে কিছুটা বিদায়ের ছোঁয়া ঠিকই পাওয়া গেল। আবেগে নতুন শেখা স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলে সমর্থকদের মন জিতে নিলেন ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম। সমর্থকদের অনুরোধে জার্মান ভাষায় বক্তব্য দিলেন রুদিগার।

 

 

রোড শোর এক পর্যায়ে বক্তব্য দিলেন মাদ্রিদের মেয়র হসে লুইস মার্তিনেস-আলমেদিয়া। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি আতলেতিকো মাদ্রিদের সমর্থক। তাই রিয়াল প্রেসিডেন্টের অনুরোধেও তাদের জার্সি পরতে রাজি হলেন তিনি। তবে লাখো সমর্থকের উপস্থিতিকে তিনি কাজে লাগিয়েছেন ভালোভাবেই। বক্তব্য দিতে গিয়ে তার মুখ থেকে বের হলো কিলিয়ান এমবাপ্পের নাম।

 

 

বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি ফরোয়ার্ড এই মৌসুম শেষ পিএসজি ছাড়ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত রিয়ালেই যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু রিয়াল বা এমবাপ্পে- কোনো পক্ষ থেকেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে না। তবে মাদ্রিদের মেয়র ঠিকই সুযোগ বুঝে কথাটা তুললেন। তিনি বলেন, ‘শিশুরা (রিয়াল প্রেসিডেন্ট) ফ্লোরেন্তিনোর কাছে (এমবাপ্পের ব্যাপারে) বলেছে এবং সবাই জানে শিশুরা সবসময় সত্য কথা বলে। ‘

 

তবে মেয়রের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ফ্লোরেন্তিনো এ নিয়ে কোনো কথাই বললেন না। এ নিয়ে কথা বলার সময়ও এটা নয়। কারণ দিনটা শুধুই উৎসবের। তাই আনন্দ-ফুর্তির দিকেই সবার মনোযোগ। বিয়ার হাতে ছবি তোলা, নাচ আর গানে মেতে থাকাতেই আগ্রহ সবার।

 

 

মাদ্রিদের ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মাঝে অবশ্য সবার ঘেমে-নেয়ে একাকার অবস্থা। এক পর্যায়ে পেছনে ৩৬ লেখা জার্সি খুলে ফেললেন কেউ কেউ। কিন্তু উৎসব থামেনি এক মুহূর্তের জন্যও। তবে এতকিছুর মধ্যেও চ্যাম্পিয়নস লিগ যেন আড়ালে উঁকি দিচ্ছিল সবার। তাইতো ইউরোপ-সেরা হয়ে মাদ্রিদের রাস্তায় ফেরার দৃঢ় প্রত্যয় তাদের চোখেমুখে- ‘ফিরে আসার জন্য আত্মবিসর্জন দেবো।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্য ইমেইল

আগামী মৌসুমে এমবাপ্পের মাদ্রিদে আসার ঘোষণা

সমর্থকদের সঙ্গে নেচে-গেয়ে মাদ্রিদের শিরোপা উদযাপন

প্রকাশিত : ১০:২২:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ মে ২০২৪

মৌসুমের শুরুতেও যাদের শিরোপা জেতার সামর্থ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। সেই রিয়াল মাদ্রিদ চার ম্যাচ হাতে রেখে গত সপ্তাহেই লা লিগার চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছে। তবে তাদের হাতে শিরোপা পৌঁছালো পরের সপ্তাহে।

 

আজ রোববার ক্লাবের ট্রেনিং গ্রাউন্ড ভালদেবেবেবাদে লস ব্ল্যাঙ্কোসদের হাতে তুলে দেওয়া হয় লিগা শিরোপা।

 

 

সেই ট্রফি নিয়ে তারা মাদ্রিদের সিটি হলে করল ফটোসেশন। এরপর ছাদ খোলা বাসে নেচে-গেয়ে মাদ্রিদের বিখ্যাত সিবেলেস স্কয়ারে যান ভিনিসিয়ুস-বেলিংহামরা।

 

তাদের সঙ্গে ছিলেন রিয়াল প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ ও শিরোপা জেতানো কোচ কার্লো আনচেলত্তি। মাদ্রিদের রাস্তায় তাদের অপেক্ষায় ছিলেন প্রায় ৫ লাখ সমর্থক।

 

 

রাস্তায় নেমে বাসের ছাদে দাঁড়িয়ে সমর্থকদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের জবাব হাত নেড়ে ও উড়ন্ত চুমোতে দেন রিয়ালের খেলোয়াড়রা। মদ্রিচ, নাচো, ক্রুস ও কারভাহালরা তুলে ধরেন লিগ শিরোপা। তবে সবচেয়ে ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন সম্ভবত আনচেলত্তি। হাতে বিখ্যাত সিগার নিয়ে ছবি তোলার জন্য পোজ দিলেন, আবার কিছুক্ষণের জন্য হয়ে গেলেন ডিজেও। মাইক্রোফোন হাতে গাইলেন রিয়াল মাদ্রিদের ঐতিহ্যবাহী গান ‘দেসিমা’। ইতালিয়ান কোচ নিজে নাচলেন কাভাভিঙ্গার সঙ্গে, পরে নাচালেন দলের বাকিদেরও।

 

 

রিয়ালের উদযাপনে ছিল চ্যাম্পিয়নস লিগের ছোঁয়াও। আগামী ১ জুন চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের মুখোমুখি হবে রিয়াল। সেই ম্যাচ জিতে আবার মাদ্রিদের রাস্তায় উৎসব করার সুযোগ অপেক্ষা করছে তাদের সামনে। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে শেষ মুহূর্তে জোড়া গোল করে চমকে দেওয়া হুসেলো ছিলেন আজকের উৎসবের মধ্যমণি হয়ে। অনেক সমর্থক তাকে থেকে যাওয়ার অনুরোধ জানান।

 

এদিকে মদ্রিচ, ক্রুস ও নাচোর জন্য এটাই হয়তো রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে শেষ মৌসুম। যদিও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে তাদের উদযাপনে কিছুটা বিদায়ের ছোঁয়া ঠিকই পাওয়া গেল। আবেগে নতুন শেখা স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলে সমর্থকদের মন জিতে নিলেন ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম। সমর্থকদের অনুরোধে জার্মান ভাষায় বক্তব্য দিলেন রুদিগার।

 

 

রোড শোর এক পর্যায়ে বক্তব্য দিলেন মাদ্রিদের মেয়র হসে লুইস মার্তিনেস-আলমেদিয়া। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি আতলেতিকো মাদ্রিদের সমর্থক। তাই রিয়াল প্রেসিডেন্টের অনুরোধেও তাদের জার্সি পরতে রাজি হলেন তিনি। তবে লাখো সমর্থকের উপস্থিতিকে তিনি কাজে লাগিয়েছেন ভালোভাবেই। বক্তব্য দিতে গিয়ে তার মুখ থেকে বের হলো কিলিয়ান এমবাপ্পের নাম।

 

 

বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি ফরোয়ার্ড এই মৌসুম শেষ পিএসজি ছাড়ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত রিয়ালেই যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু রিয়াল বা এমবাপ্পে- কোনো পক্ষ থেকেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে না। তবে মাদ্রিদের মেয়র ঠিকই সুযোগ বুঝে কথাটা তুললেন। তিনি বলেন, ‘শিশুরা (রিয়াল প্রেসিডেন্ট) ফ্লোরেন্তিনোর কাছে (এমবাপ্পের ব্যাপারে) বলেছে এবং সবাই জানে শিশুরা সবসময় সত্য কথা বলে। ‘

 

তবে মেয়রের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ফ্লোরেন্তিনো এ নিয়ে কোনো কথাই বললেন না। এ নিয়ে কথা বলার সময়ও এটা নয়। কারণ দিনটা শুধুই উৎসবের। তাই আনন্দ-ফুর্তির দিকেই সবার মনোযোগ। বিয়ার হাতে ছবি তোলা, নাচ আর গানে মেতে থাকাতেই আগ্রহ সবার।

 

 

মাদ্রিদের ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মাঝে অবশ্য সবার ঘেমে-নেয়ে একাকার অবস্থা। এক পর্যায়ে পেছনে ৩৬ লেখা জার্সি খুলে ফেললেন কেউ কেউ। কিন্তু উৎসব থামেনি এক মুহূর্তের জন্যও। তবে এতকিছুর মধ্যেও চ্যাম্পিয়নস লিগ যেন আড়ালে উঁকি দিচ্ছিল সবার। তাইতো ইউরোপ-সেরা হয়ে মাদ্রিদের রাস্তায় ফেরার দৃঢ় প্রত্যয় তাদের চোখেমুখে- ‘ফিরে আসার জন্য আত্মবিসর্জন দেবো।